ব্রেকিং নিউজ : পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

 

পরিস্থিতি ভয়াবহ

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধস: প্রাণহানি বেড়ে ৩৪, এখনও নিখোঁজ ৩২

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো অন্তত ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বুধবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত শনিবার টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পশ্চিম জাভার পাহাড়ি গ্রাম পাসিরলাঙ্গুরে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা কাদামাটির স্রোতে গ্রামটির বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজের তালিকায় বর্তমানে ৩২ জনের নাম থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।

পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টি ও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে অন্তত ৫০টির বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৬৫০ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম জাভার গভর্নর দেদি মুলিয়াদি বলেন, পাসিরলাঙ্গুর এলাকায় ব্যাপক সবজি চাষের প্ল্যানটেশন থাকায় পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পেছনেও বন উজাড় বড় ভূমিকা রেখেছিল। ওই দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনভূমি বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং গাছের শিকড় মাটি শক্ত করে ধরে রাখে। বন উজাড় হলে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই দেখা যায়। দেশটিতে সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম স্থায়ী হয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url